August 9, 2026, 1:21 pm
সাইফুল ইসলাম বাবুল, পেকুয়াঃ
উপকূলীয় জনপদ পেকুয়া। সারা বিশ্বের মহামারী ছোঁয়া আমাদের বাংলাদেশে এসে গেছে। সরকারি ঘোষণায় টের পাচ্ছে পরিস্থিতির ক্রমাবনতি। আক্রান্ত আর মৃত্যু যেনো বেড়েই চলছে। ক্ষুদ্র জনপদ সংক্রমিত হওয়ার অনেক পথ আছে। জলপথের আসা-যাওয়া উপকূলীয় আঞ্চলিক মহাসড়ক সামাজিক দূরত্ব সব মিলিয়ে আমরা ঝুঁকিতে আছি। সরকারি নিদর্শনা ফালনে পেকুয়ায় এস আই ইয়াকুব এর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরা নিরলস দায়িত্ব ফালন করে যাচ্ছে । তাদের শত সজাগ দৃষ্টির অন্তরালে হয়তো করোনা এসেই যেতে পারে। তাই এই মুহূর্তে প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা।
এর পরও দেখা যাচ্ছে অন্যান্য পার্শ্ব বিপদ। যেমন মানুষের প্রাত্যহিক খাদ্য সংস্থান, রুটি-রুজির পথ অন্যান্য রোগের চিকিৎসা এসব পার্শ্ব বিপদ এড়িয়ে মানুষের জীবন চলতে পারে না। সরকারি সাহায্য গুলো যথাযথ ভাবে যাচ্ছে কিনা খতিয়ে দেখা দরকার। দুই এক দিন পুর্বে দেখলাম পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন নামের আইডিতে একটা নাম্বারে (০১৮৭১০৫০৪৫৮) তে ফোন দিতে অনুরোধ করা হলো। কিন্তু সেই ফোনের ফলাফল এখনো মানুষের কাছে পৌঁছায়নি।
নিম্ন আয়ের মানুষের ঘরে খাবার নেই। মধ্যবিত্ত পরিবার আরো অসহায়। সুতরাং তাদের ক্ষুধার জ্বালা করোনার ভয়কে উপেক্ষা করছে। ভিক্ষুক ভিক্ষা পাচ্ছে না স্বল্পআয়ের জনগোষ্ঠী ইতিমধ্যে তাদের সীমিত সঞ্চয় শেষ করেছে।
কিন্তু পেকুয়া উপজেলা প্রশাসনের ফটোসেশন থেমে নেই। অনেক জনপ্রতিনিধি সরকারি সাহায্য নিজের বলে চালিয়ে দিচ্ছেন।সমাজিক দূরত্ব না মেনে ফটোসেশনের দরকার কি?
এতো স্বেচ্ছাসেবী, রাজনৈতিক কর্মী, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, চৌকিদার, পুলিশ, আনসার, আর্মি থাকতে মানুষকে এক জায়গায় জড়ো করার কী দরকার?
ত্রাণ সামগ্রী পাড়ায় ঢুকে দরোজায় দিয়ে আসলে তো হয়। তবে কথা থাকে এই অপ্রতুল ত্রাণ সামগ্রী কয়জনকে দিবেন তাই মনে হয় ফটোসেশন দরকার।
লক্ষ্য করার বিষয় এতো বিত্তশালী জনদরদীরা এখন কোথায়? মানুষকে ঘর বন্দী রেখে অনাহারে রাখার ব্যবস্থা করে কি সব শেষ। মনে রাখা দরকার ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়।
জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনকে কিছুই বলতে পারছে না। কারণ সামনে ইউপি নির্বাচন,হেতু কি? নির্দিষ্ট বরাদ্দ নির্দিষ্ট জায়গার জন্য নিয়ে যান,আপনার ভোটারদের দে, আপনার মানুষ বাঁচান তারাই আপনাকে বাঁচাবে। নিজের স্ফীত সঞ্চয় থেকে মানুষের দিকে একটু হাত বাড়ান।
পেকুয়ার জনপ্রতিনিধিরা অনেক সৎ মনে হয়। চলমান নয় ছয় দেখা যাচ্ছে না। ত্রান সামগ্রী মানুষের হাতে যাচ্ছে। তবে স্বজনপ্রীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আপনজন এবং কাছের লোকজন পাচ্ছে। সিংহভাগ জনগোষ্ঠী বঞ্চিত। তাই দলবাজি থেকে একটু সরলে ভালো হয়। আমরা নিরবে লক্ষ্য করছি নেতারা একটু সরব হলেও এখন নীরব ।
একদিন ফেসবুকে দেখলাম চাঁদার ফরমায়েশ দেওয়া হচ্ছে। দয়া করে এসব কাজ থেকে দূরে থাকা ভালো। এমন দুর্দিনে মারামারি-হানাহানি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এখনই এগুলো পরিহার করা উচিত। বাজার নিয়ন্ত্রণে নেই, দ্রব্যমূল্য নাগালের বাইরে যাচ্ছে। আবার দেখা যাচ্ছে লকডাউন এর নামে রাস্তা বন্ধ করা। প্রশ্ন হলো রাস্তা বন্ধ করলে রোগী কিভাবে হাসপাতালে যাবে। ডাকাতি হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিভাবে যাবে? নাকি মাদক সেবনকে নিরাপদ করা। এসব লক ডাউনের নামে সামাজিক দূরত্ব ভঙ্গ হচ্ছে। পাড়ার ছেলেরা পাড়ার টং দোকানে একত্রিত হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতারা চাইলে অন্তত পাড়ার দায়িত্ব নিতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় মঞ্চ সঙ্কলন হয়না। আপনাদের এখনই সময় জনতার মঞ্চে যাবার। যান মানুষের মন জয় করুন। ১৯৭১ সালের দুর্দিনে মুক্তিযুদ্ধারা ছিলেন। ২০২০ সালের দুর্দিনে আপনারা আছেন। তাই দল-মত-নির্বিশেষে সময়ের দাবি যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে করোনার মোকাবেলা করতে হবে।
পুনশ্চঃ ত্রান বাড়ানো দরকার এবং মানুষের দরজায় পৌঁছে দিন। প্রশাসনের যেনো কড়া নজর থাকে।